Friday, March 13, 2026

20>|| মায়ের বোধন ও অকালবোধন ||

     20>|| মায়ের  বোধন ও অকালবোধন ||


নানান রূপে মায়ের অকালবোধন ::--

মায়ের বোধন হয় ।

তবে অকাল বোধনও হয়।

কেবল আমাদের শারদীয় দুর্গা পুজোতেই নয় ,আরও নানান সময়ে নানান ভাবে মায়ের অকাল বোধন হয়।

যেমন::--জিতাষ্টমী, মহালয়া, রাসপূর্ণিমা,একাদশীর ভাণ্ডানী দুর্গা,

ভরা শীতের পৌষালী দুর্গা পূজতেও

হয় অকালবোধন।

আসলে বছরের নানা সময়ে নানা ভাবে 

আমাদের নানান ইচ্ছা পূরণে  নানান আগ্রহে কখনো বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা বৎসর ভর মাকে জাগিয়ে তুলবার জন্য সচেষ্ট হই এবং মাকে  আমাদের ঘরে আসার জন্য প্রার্থনা জানাই।

পরবর্তী সময়ে আমরা নানান ভাবে প্রত্যক্ষ করি মায়ের আগমনের, মায়ের সহায়তার,

মায়ের আশিশিষে আমরা ধন্য হই।

মা আমাদের বার বার কল্যাণ করেণ কিন্তু

প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেই সেই মাকেই আমরা ভুলে যাই। তখন আমরা আমাদের অহংকার বশে  মনেকরি ওই মাটির

প্রতিমার মধ্যেই কি আর মা আছেন।

আর তাই প্রতিমা বিসর্জন দিয়েই আমরা শুরু করি অত্যাচার ,প্রকৃতির উপরে অত্যাচার, বন বৃক্ষ ধ্বংস করে প্রকৃতিকে প্ৰদূষনে ভরিয়ে তুলি।


'মা' কখনও আসেন একলা কখনও আসেন পুরো পরিবার অর্থাৎ ছেলে মেয়ে দের সাথে নিয়ে।

বর্ষার শেষেতেই আসে শরৎ। 

আর তখনি প্রকৃতির সেজে ওঠে,

চারিদিকে কাশফুলের সমারোহ, আকাশে সাদা মেঘের আনা গোনার সাথে মায়ের আগমনবার্তা জানিয়ে দেয় ধরার মাঝে।

প্রকৃতিও আনন্দে মেতে ওঠে সকালে শিশির ভেজা পরশ মেখে। সে এক জাগতিক সৌন্দর্য মেলা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবী ময়।

আমাদের ঘরের মেয়ে উমা আদরের মা আজ বিশ্ব প্রকৃতির 'মা' ,আজ বিশ্ব ময় চলছে দুর্গা রূপে তাঁর পূজার্চনা।

সৃষ্টির এক অপূর্ব নীলার প্রকাশ সারা বিশ্ব

চরাচর ময়।


শারদলক্ষ্মীকে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করার জন্য আমরা প্রার্থনা করি বোধন ও আনুষ্ঠানিক পূজার্চনা ও প্রার্থনার মধ্যদিয়ে কিন্তু বসন্তকালের পুজোয় এই বোধনের অনুষঙ্গটি নেই। কারণ স্বর্গের সকল   দেবদেবীরা তখন জাগ্রতই থাকেন। 


★জিতাষ্টমীর যোগমায়া:--


মায়েরা সন্তানের আয়ু ও মঙ্গল কামনায় জন্য পালন করেন জিতাষ্টমীর ব্রত।

এই ব্রতকে 

'জিতা' বা 'বড়ষষ্ঠী' নামেও পালন করা হয়।


পশ্চিম বর্ধমান জেলার উখরা গ্রামে জিতাষ্টমীতে প্রচলিত আছে যোগমায়া দুর্গার পুজো। বসুদেব ও দেবকীর অষ্টম সন্তান কৃষ্ণকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন গোকুলে, মাতা যশোদার গর্ভে। কৃষ্ণকে গোকুলে রেখে যোগমায়াকে তাঁর কাছে নিয়ে আসেন বসুদেব। কংস যোগমায়াকে বধ করতে উদ্যত হতেই তিনি শূন্যে মিলিয়ে যান। উখরা গ্রামে যোগমায়া দুর্গাপুজোর বাজনা বাজে জিতাষ্টমীর সময়। জিতাষ্টমী হল আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি। 

এটি একটি ব্রত, মায়েরা সন্তানের আয়ু ও মঙ্গল কামনায় পালন করেন।

এই ব্রতকে 'জিতা' বা 'বড়ষষ্ঠী' নামেও উল্লেখ করা হয়। কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠীতে বোধন করে, তার পর সপ্তমী থেকে পুজো চলে চার দিন। এই পুজো বয়সে নবীন। স্থানীয় অর্চিষ্মান পাল এখানকার কয়লাখনিতে কর্মরত অবস্থায় মহামায়ার নির্দেশ পান। এ যুগে এমন ঘটনা বিরল। কয়লার খাদানে কাজে করতে করতে তিনি উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি দেখেন। ঘোরের মধ্যে সেই আলোয় দেখেন এক দেবীমূর্তি। সিংহারূঢ়া, দ্বিভুজা, এক হাতে পদ্ম, অন্য হাতে ত্রিশূল। অপরূপা দেবীর মাথায় মুকুট ও অর্ধচন্দ্র, পরনে রক্তবস্ত্র। অর্চিষ্মান বরাবর ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতায় আগ্রহী। তাঁর মনে মায়ের নির্দেশকে বাস্তব রূপ দেওয়ার বাসনা প্রবল হয়ে ওঠে।

এই পুজো শুরুর আরও একটি কারণ আছে। অর্চিষ্মানের একটি ছৌ নাচের দল আছে। দলের সদস্যরা সবাই প্রায় তথাকথিত নিম্নবর্গের মানুষ। গ্রামের প্রাচীন অভিজাত পূজাগুলিতে তাঁরা ব্রাত্য। তাই এঁদের নিয়েই তোড়জোড় শুরু করেন অর্চিষ্মান। পুজোর সময় ছৌ-নাচের অনুষ্ঠানের ডাক পায় এই দলটি। তাই কৃষ্ণপক্ষের জিতাষ্টমীতে পুজোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্চিষ্মানবাবু যোগমায়া দুর্গার পুজোর জন্য নানা শাস্ত্রের পাতা উল্টেছেন। যজুর্বেদে রয়েছে এমন পুজোর নিয়মবিধি। সম্পূর্ণ বৈদিক নিয়ম মেনেই পুজো করেন তিনি। যোগমায়া দুর্গার বধ্য অসুরের নাম যোগাসুর। অর্চিষ্মান 'যোগমায়াচরিতামৃত' নামে একটি গ্রন্থও রচনা করেছেন কয়লাখাদানে কর্মবিরতির অবকাশে।

যোগমায়া দুর্গার কাঠামো বিসর্জনের পর তুলে রাখা হয়। ফের পরের বছর রথের দিন মাটি পড়ে তাতে। পঞ্চমীতে প্রতিমা এনে প্রতিষ্ঠা করা হয় পুজোর বেদিতে। স্থানীয় বকশীপুকুর থেকে ষষ্ঠীঘট ভরে আনা হয়। সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান হয় বাঁধে। অষ্টমীর দিন যজ্ঞ হয়। সপ্তমীতে চিঁড়েভোগ, অষ্টমীতে লুচিভোগ, নবমীতে চিঁড়েভোগ দেওয়ার পর দশমীর দিন মাকে খিচুড়ি ও পায়েসের সঙ্গে মৎস্যভোগও দেওয়া হয়। দশমীর সন্ধ্যায় শুকোপুকুর বাঁধে হয় দেবীর বিসর্জন।


★একাদশীর ভাণ্ডানী দুর্গা,

দশমীর সন্ধেয় মা যাত্রা করেন পতিগৃহ কৈলাসের উদ্দেশে। চার দিনের সমারোহের শেষে সবার মনে বিষাদের ছোঁয়া। আবার এক বছরের প্রতীক্ষা। কিন্তু বিষাদের রেশ কেটে যায় একাদশীতে ভাঙানী দুর্গাপুজোয়। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ভাঙানী গ্রামে একাদশীতে দুর্গাপুজোর প্রচলন বহু বছর ধরে। মা এখানে ভাণ্ডানী দুর্গা রূপে আসেন। এই পুজোর পিছনেও রয়েছে একটি সুন্দর লোককাহিনি। বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে তখন খুব ধুমধাম করে পুজো হত। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ যোগ দিতেন তাতে। এক বার দশমীর দিন মা দুর্গা রাজবাড়ি ছেড়ে কৈলাসে ফিরছেন। পথিমধ্যে বৈকুণ্ঠপুরের ঘন জঙ্গলে পথ হারান। স্থানীয় এক রাখাল গরু চরিয়ে ফিরছিল। অন্ধকার জঙ্গলে নারীকে দেখে সে এগোতে বারণ করে ও নিজগৃহে

আশ্রয় দেয়। মাঝরাতে দেবী স্বপ্নে আসেন নিজরূপে। রাখালকে বলেন বরপ্রার্থনা করতে। রাখাল দেবীকে বলে, এখানে খাওয়ার খুব কষ্ট, জঙ্গলে চাষ করা যায় না। অঞ্চলের অন্নসঙ্কট দূর করার বর চায় সে। দেবীর কৃপায় তিস্তার চর ভরে যায় শস্যশ্যামলা কৃষিভূমিতে। শস্যভান্ডার ভরে ওঠে, যার ভান্ডারি দেবী স্বয়ং, তাই তাঁর নাম হয় ভাণ্ডানী। একাদশীতে আয়োজন হয় ভাণ্ডানী পুজোর।

অনেকের মতে, বনপথে দুর্গার গতিরোধ করেছিল নিম্নবর্গীয় এক দল দরিদ্র মানুষ। তাঁরাও চেয়েছিলেন মায়ের পুজো করার অধিকার। কিন্তু তিনি তো সবে পুজো নিয়ে ফিরছেন কৈলাসে। শিবকে কথা দেওয়া আছে যে। কিন্তু দরিদ্র মানুষগুলি নাছোড়। দুর্গা কি শুধু জমিদার, রাজা, উচ্চবর্গীয়দের? তিনি তো মা, ধনী-দরিদ্র সবাই তাঁর সন্তান। তখন দেবী বলেন, ওরা যেন সে দিনই তাড়াতাড়ি পুজোর জোগাড় করে। একটি জনমত অনুযায়ী, এই কাহিনি অনুযায়ী সন্তানরা মায়ের সঙ্গে ছিলেন না। কারণ তাঁরা পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন অনেকটা। এই কারণে ভাণ্ডানী পুজোয় কোথাও পার্শ্বদেবদেবী থাকেন, কোথাও থাকেন না। তবে মূলত কৃষি-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এই পুজো আজ উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ভীষণ জনপ্রিয়।

প্রায় পাঁচশো বছর ধরে চলে আসছে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার তিস্তার পাড় বরাবর ভাণ্ডানী পুজো। একাদশীর দিনে পুজো, রাতে বিসর্জন। দেবী এখানে মহিষাসুরমর্দিনী নন, গ্রামের স্নেহধন্যা সাধারণ নারী। দেবী দ্বিভুজা, বাঘের উপর অধিষ্ঠিতা। এই জঙ্গলে এক সময় বাঘের উপদ্রব ছিল খুব। সে কারণে দেবীর বাহনরূপে বাঘকে রাখা হয়েছে। পদতলে নেই অসুর। শান্ত মূর্তি মায়ের। দেবীর নামে পায়রা ওড়ানো হয়। দেবীর উদ্দেশ্যে হয় পাঁঠাবলিও।

উত্তরবঙ্গের ইতিহাস বলছে, প্রাচীন রাজবংশী সমাজে দুর্গাপুজোর বিকল্প হিসেবে ভাণ্ডানী পুজোর আয়োজন হত। কারণ চার দিনের পুজো ছিল ব্যয়বহুল। তা ছাড়া, রাজার অনুমতিও মেলেনি। তাই এই এক দিনের পুজোর শুরু। কোচবিহারের রাজা নরনারায়ণের কামরূপ বিজয়ের বহু আগে থেকেই রাজবংশীরা এই পুজো করে এসেছে, যার ঐতিহ্য আজও অমলিন।


★মহালয়ায় দুর্গাপুজো::---


যে মহালয়ার পুণ্যতিথি দেবীপক্ষের সূচনাবার্তা নিয়ে আসে, সেই মহালয়াতেই দেবীর আবাহন, আরাধনা ও নিরঞ্জন। এমন পুজোর দেখা মেলে পশ্চিম বর্ধমানের বার্নপুরের ধেনুয়া গ্রামে। এখানকার কালীকৃষ্ণ আশ্রমে, মহালয়ার অমাবস্যা তিথিতেই ষষ্ঠী থেকে দশমীর সর্বাঙ্গীণ পুজো সারতে হয়, রাতে বিসর্জন। ধেনুয়াতে ১৯৩৭সালে কালীকৃষ্ণ যোগাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন সাধক কালীকৃষ্ণ। আশ্রমে প্রতিষ্ঠিত কেদারনাথ শিব ও কালীমূর্তি। ১৯৬৯ সালে আশ্রমে আসেন তেজানন্দ ব্রহ্মচারী। তিনি ১৯৭৭ সালে এক রাতে স্বপ্ন দেখেন মা দুর্গাকে।


 মায়ের আদেশ অনুযায়ী মহালয়াতেই করতে হবে সম্পূর্ণ পুজো। ঠিক মহালয়ার আগের দিন প্রতিমা তৈরি সম্পন্ন হয়। আশ্রমেই গড়া হয় প্রতিমা। দুর্গাপুজোর আগে কালীপুজো হয়। তার পর নির্দিষ্ট সময় হলে বোধন। নবপত্রিকা স্নান, চার দিনের পুজো, অন্নভোগ, সন্ধিপুজো- খুব দ্রুততার সঙ্গে চলে। বৈষ্ণবমতে পুজো হয়। 

আগে মহালয়ার গভীর রাতে প্রতিমা বিসর্জিত হত দামোদরের বুকে। এখন সে দিন শুধু ঘট ও নবপত্রিকা বিসর্জন হয়। গ্রামবাসীদের অনুরোধে দশমীর দিন জলে দেওয়া হয় প্রতিমা। তার আগে থাকে গ্রামবাসীদের সিঁদুর খেলা, মিষ্টি বিতরণ।

তেজানন্দ ব্রহ্মচারী এক অনন্য মূর্তি দেখেছিলেন স্বপ্নে। মায়ের গাত্রবর্ণ অগ্নিস্বরূপা, দশভুজা, সিংহবাহিনী, তবে অসুর নেই। সঙ্গে থাকে মায়ের দুই সহচরী জয়া ও বিজয়া। অভিনব এই পূজাটি যুগ যুগ ধরে তার নিজস্বতা বজায় রেখে চলেছে।


★রাসপূর্ণিমায় দুর্গাপুজো

রাসপূর্ণিমার দিনে দুর্গার অকালবোধন ঘটে জলপাইগুড়ি জেলার পাতাকাটা অঞ্চলে। আশ্বিনের শুক্লপক্ষ নয়, কার্তিকের পূর্ণিমাকে এখানে বেছে নেওয়া হয়েছে দুর্গার আরাধনার জন্য। দেশের অন্যান্য অংশের মানুষ যখন শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা, উদ্যাপনে মগ্ন, তখন খানিকটা আড়ম্বরহীন ভাবেই দুর্গাপুজো পালিত হয় পাতাকাটার গুয়াবাড়িতে। প্রায় দু'শো বছর ধরে চলছে এই পুজো। ১৮৫০ সালে স্থানীয় গুয়াবাড়ির বাসিন্দা ভয়দেব রায় পারিবারিক ভাবে পুজোটির সূচনা করেন। তাঁর পুত্র সুদান রায় পুজোটি চালিয়ে এসেছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের সেকেন্দ্রনাথ রায় আছেন পুজোর দায়িত্বে। আগে জগদ্ধাত্রী পুজোর দিনে দশভুজা দুর্গার পুজো হত, সঙ্গে থাকতেন দুর্গার চার ছেলেমেয়ে। পরবর্তী কালে রাসপূর্ণিমার দিনে পুজো শুরু হয়। বর্তমানে আর্থ-সামাজিক কারণে পুজোটি সর্বজনীন ভাবে পরিচালিত হয়। পুজোটির দায়িত্ব নিয়েছে গুয়াবাড়ি সর্বজনীন।

রাসের দিন পুজো হওয়ার পর দুর্গাপ্রতিমা মন্দিরেই থাকে। বিসর্জন হয় না। সারা বছর পুজো হয়। পরের বছর পুজোর আগের দিন বিসর্জন হয়। নতুন প্রতিমা এনে মন্দির পরিষ্কার করে বেদিতে স্থাপন করা হয়। এক দিনে পুজোর সব অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে গুয়াবাড়ির বাসিন্দারা মেতে ওঠেন হুল্লোড়ে। বসে মেলা, চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


★ভরা শীতের পৌষালী দুর্গা

দেবী দুর্গার নবরূপের মধ্যে অন্যতম হলেন কাত্যায়নী। মহর্ষি কাত্যায়ন প্রথম তাঁর আশ্রমে কন্যারূপে কাত্যায়নী দুর্গার পুজো করেছিলেন। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বেশ কয়েকটি জায়গায় কাত্যায়নী দুর্গাপুজোর চল বহু বছর ধরে। জাঁকজমক করে পুজো হয় প্রতি বছর। তবে পুজোটি হয় পৌষের কৃষ্ণপক্ষে, ঘোর শীতের মধ্যে। যেমন, জলপাইগুড়ির রায়কত পাড়ায় ভট্টাচার্য বাড়িতে নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে হয় এই দুর্গাপুজো। অঞ্চলের মানুষ মেতে ওঠেন পুজো ঘিরে। জলপাইগুড়িতে এই পুজো চলছে আশি বছর ধরে। তবে এর শুরু পূর্ববঙ্গে, তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জে, অমরেন্দ্র ভট্টাচার্যের হাত ধরে, ২৩০ বছর আগে। পরে তাঁরা এ দেশে চলে আসেন। এ পুজোর নির্ঘণ্ট, পুজোর প্রথা, অনেকটাই আলাদা শারদীয়া দুর্গাপুজোর থেকে।


■■■■■■■■■■ ■    ■■■■■■■■■■■■■■■■■


সূর্যের দুটি আয়ন / গতি

উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়ন।

উত্তরায়ন দেবতাদের দিবা কাল ও দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত্রীকাল।


দক্ষিণায়না অর্থাৎ দেবতাদের রাত্রিকালে দেবতারা নিদ্রায় থাকেন। তাই দেব-দেবীকে জাগানোর জন্য অকালবোধন প্রয়োজন হয়। 

সাধারণত, দেবীর বোধন বা জাগরণ হয় ষষ্ঠী তিথির সন্ধ্যায়, যার মাধ্যমে দেবীরা দক্ষিণায়ন থেকে জাগ্রত হন এবং পূজাগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হন। 


দক্ষিণায়ন::--->

দক্ষিণায়ন হলো  যখন সূর্য কর্কট রাশি থেকে মকর রাশির দিকে যাত্রা করে, যা উত্তর থেকে দক্ষিণে সূর্যের এই ভ্রমণকে বোঝায়। 

মানুষের এক বছরের সময়কাল দেবতাদের একটি দিনের সমান।

মানুষের 1বৎসর = দেবতাদের 1 দিন।


দক্ষিণায়নের ছয় মাস দেবতাদের রাতের সমতুল্য, তাই এই সময়ে তারা নিদ্রা যান।

 শারদীয়া পুজা দক্ষিণায়নের সময় সেই কারণেই দেবী নিদ্রামগ্ন থাকেন, দেবীকে অকালেই জাগ্রত বা বোধন করতে হয় তাই এই পুজা অকাল বোধন নামে খ্যাত।



উত্তরায়ণ (সূর্যের উত্তরমুখী যাত্রা)

সময়কাল: এটি সাধারণত ১৪ জানুয়ারির মকর সংক্রান্তি থেকে শুরু হয়ে ২১ জুন বা কর্কট সংক্রান্তি পর্যন্ত চলে। 

প্রভাব: উত্তরায়ণকে শুভ বলে মনে করা হয় এবং এই সময়কালে দিনগুলি বড় হতে শুরু করে, যা উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা দেয়। 

ঋতু: এই সময়ের মধ্যে মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ এবং আষাঢ় মাস পড়ে। 


দক্ষিণায়ন (সূর্যের দক্ষিণমুখী যাত্রা)

সময়কাল: এটি ২১ জুন বা কর্কট সংক্রান্তি থেকে শুরু হয়ে ২১ ডিসেম্বর বা শীতকালীন অয়নান্ত পর্যন্ত চলে। 

প্রভাব: দক্ষিণায়নের সময় দিন ছোট হতে থাকে এবং উত্তর গোলার্ধে শীতের আগমন ঘটে। 

ঋতু: এই ছয় মাসের সময়কালে বর্ষা, শরৎ ও শীতকাল অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

গুরুত্ব 


হিন্দু দর্শন ও উৎসব: সূর্যের গতির সঙ্গে ভিষিনভাবে প্রভাবিত।


উত্তরায়ণ এবং দক্ষিণায়ন হিন্দু ধর্ম, আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যেখানে সূর্যকে ঐশ্বরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

কৃষি: এই পর্যায়গুলো কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে এবং ঋতু পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চাষাবাদ করা হয়।

আধ্যাত্মিক তাৎপর্য: উত্তরায়ণকে দেবতাদের দিনকাল হিসেবে এবং দক্ষিণায়নকে মানুষের দিনকাল হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়, যা আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 ======================




Sunday, January 25, 2026

19>|| শ্রী শ্রী মা আদ্যা শক্তি||

     19>|| শ্রী শ্রী মা আদ্যা শক্তি||


শ্রী শ্রী মা আদ্যা শক্তি আপনি সমগ্র জগতের মূল কারণ। আপনি সত্ত্বাদি গুণময়ী হলেও রাগদ্বেষাদি দোষযুক্ত মানুষ আপনাকে জানতে পারে না। আপনি বিষ্ণু, শিব প্রমুখ দেবগণেরও অজ্ঞাত। ব্রহ্মা থেকে কীট পর্যন্ত এই অখিল বিশ্ব আপনার অংশভূত, কারণ আপনিই সকলের আশ্রয়স্বরূপা। আপনি ষড়বিকার-রহিতা পরমা আদ্যা প্রকৃতি।

-শ্রীশ্রীচণ্ডী, ৪।৭

=====================

Saturday, January 24, 2026

18>কামাড় পুকুর--to--> 7.3km জয়রামবাটি

 কামাড় পুকুর--to--> 7.3km জয়রামবাটি

---to-->6.7 km কোয়ালপাড়া--

 -to--->4.9 km কোতলপুর।

কোতল পুর to জয়রামবাটি 12km.


জয়রামবাটি পিন কোড:-722161


কোয়ালপাড়া আশ্রম যাকে সকলে বলতেন মা সারদার বৈঠক খানা জয়রামবাটি থেকে ৬ কিলো মিটার দূরে । মা যখন বিষ্ণুপুর হয়ে ট্রেনে কলকাতা যেতেন তখন যাওয়ার পথে এই কোয়ালপাড়া এসে থাকতেন । 

সুন্দর শান্তির নীড় এই কোয়ালপাড়া যোগাশ্রম । এখানে খুব বেশি ভক্তের ভিড় নেই।

আমরাএখানে  প্রসাদ পেয়েছিলাম । এখানে মাকে মৎসোভোগ দেওয়া হয় । আজকের মেনু ভাত, ডাল, আলুসিদ্ধ, আলু ভাজা, পাঁচ মিশালী তরকারি, মাছের মাথা দিয়ে বাঁধাকপি, আলু পোস্ত ও মাছের ঝোল ।

 মনে হলো যেন মায়ের হাতের বাড়ির রান্না খেলাম ।


==============

কোতুলপুর  সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার উন্নয়ন ব্লক,একটি প্রশাসনিক বিভাগ।

পিন কোড:--722141.


★★কোতুলপুরে

★ভাগলপুর গ্রামে কৃষ্ণ রায় জিউ মন্দির।


★কোতলপুরের গুরুত্বপূর্ণ নদী হল "আমোদর" ( দামোদর নয়)। এটি কনুচিয়াকল নামক স্থানের একটি ঝরনা থেকে উদ্ভূত। এই নদী কৃষিকাজ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। এটি প্রায় দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির কিছু ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। গড় মান্দারণ (কাছাকাছি একটি স্থান, বর্তমানে হুগলি জেলায় অবস্থিত এবং তখনকার রাজ্যের রাজধানী) এই নদী দ্বারা বেষ্টিত। মুঘল যুগে একটি যুদ্ধে কোটলু খান পরাজিত হন এই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। এই কোটলু খানের নামেই কোতুলপুরের নামকরণ করা হয়েছে।


প্রায় সপ্তম শতাব্দী থেকে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা পর্যন্ত, প্রায় এক হাজার বছর ধরে বাঁকুড়া জেলার ইতিহাস বিষ্ণুপুরের হিন্দু রাজাদের উত্থান ও পতনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৭শ শতকের শেষের দিকে বিষ্ণুপুর রাজারা শিখরে পৌঁছালেও, ১৮শ শতকের প্রথমার্ধে তাদের পতন শুরু হয়। প্রথমে বর্ধমানের মহারাজা ফতেপুর মহল দখল করেন এবং পরবর্তীতে মারাঠাদের আক্রমণে এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়।


১৭৬০ সালে বিষ্ণুপুরকে বর্ধমান চাকলার সঙ্গে ব্রিটিশদের কাছে সমর্পণ করা হয়। ১৭৮৭ সালে বিষ্ণুপুরকে বীরভূমের সঙ্গে যুক্ত করে একটি পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হয়। ১৭৯৩ সালে এটি বর্ধমান কালেক্টরেটে স্থানান্তরিত হয়। ১৮৭৯ সালে, বর্তমান জেলার আকার গঠিত হয় যখন খাতড়া এবং রাইপুর থানা এবং সিমলাপাল পোস্ট মানভূম থেকে বাঁকুড়ায় যুক্ত হয়। একইসঙ্গে সোনামুখী, কোতুলপুর এবং ইন্দাস থানাগুলি বর্ধমান থেকে বাঁকুড়ায় স্থানান্তরিত হয়। তবে এটি কিছু সময়ের জন্য পশ্চিম বর্ধমান নামে পরিচিত ছিল এবং ১৮৮১ সালে বাঁকুড়া জেলা নামে পরিচিতি পায়।


দর্শনীয় স্থান

★জয়রামবাটি - শ্রীরামকৃষ্ণের স্ত্রী সারদা দেবীর জন্য বিখ্যাত।

শ্রী শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দির, হরিহর জিউ মন্দির, শ্রী গণেশ জিউ মন্দির, শ্রী ভৈরব ঠাকুর জিউ মন্দির: এই মন্দিরগুলি ১৯০৭ সালের আশেপাশে প্রয়াত ক্ষেত্রমোহন রক্ষিতের উদ্যোগে নির্মিত হয় এবং বর্তমানে এগুলি শতাধিক বছরের পুরনো। প্রতিবছর এখানে ৩ দিনের ঝুলন যাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মানুষজন এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। এই মন্দিরগুলি কোতুলপুরের রক্ষিতপাড়ায় অবস্থিত।


★কোয়ালপাড়া - সারদা দেবীর আরেকটি বাড়ি দেখার জন্য পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ান। এখানে তিনি ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনকে উৎসাহিত করতেন।

সিহার - এখানে ২৬৭ বছরের পুরানো ডাঃ গুণময় মুখার্জীর পরিবারের শ্রী শ্রী রঘুনাথের একটি পঞ্চরত্ন মন্দির এবং ১৫০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, শ্রী শ্রী শান্তিনাথ মন্দির (মন্দিরের শিল্প জৈন যুগের), শ্রী শ্রী রতন্তী কালিকা মন্দির (শ্রীশ্রী রটন্তী কালিকা মন্দির) রয়েছে। শিবানন্দ সরস্বতী, শ্রী শ্যামানন্দ সরস্বতী) এবং শ্রী সারদা মঠ গ্রামকে দর্শনীয় পরিণত করেছে।

★কোতুলপুর - কোতুলপুর শ্রীধর মন্দির


======================




Thursday, September 4, 2025

17>দেবীর দশ অস্ত্র ও তার প্রতীক::---

 দেবীর দশ অস্ত্র ও তার প্রতীক::---


দেবীর দশ হাত এবং তার অস্ত্র আসলে বাস্তব জীবনের নানা প্রতীক! জেনে নিন তাদের অর্থ

দুর্গার হাতে থাকা ১০ অস্ত্রেই লুকনো আছে বাস্তব জীবনের কিছু অর্থ। আদতে এই অস্ত্রগুলি বিভিন্ন জিনিসের প্রতীক। জানেন সেগুলি কী?


 মা দুর্গা মানেই দশ হাতে একসাথে দশ দিক সামল দেওয়া দশ হাতে।

এই দশ হাতে দশ অস্ত্র যেন একসঙ্গে একাধিক কাজ করার প্রতীক।


দেবী দুর্গা শব্দটি শুনলেই দশ হাতে দশ রকমের অস্ত্র নিয়ে রণসাজে সুসজ্জিত এক দেবীর ছবি তথা প্রতিমার অবয়ব

 চোখের সামনে ভাসে। 


 দেবীর এ-হেন দশ হাত এবং তাতে থাকা দশ রকমের অস্ত্র আসলে এক একটি প্রতীক? এর সঙ্গে যোগ আছে বাস্তব জীবনের।


  ★1>চক্র::--->

দেবীর হাতে থাকা চক্র আদতে দৃঢ়তা এবং সংহতির প্রতীক। একই সঙ্গে এই চক্রের মাধ্যমে বোঝানো হয় সমস্ত সৃষ্টির কেন্দ্রে রয়েছেন স্বয়ং দেবী দুর্গা। বিষ্ণু তাঁকে এই অস্ত্র দিয়েছিলেন। 



★2>ত্রিশূল::-->

দেবাদিদেব মহাদেব তাঁর ত্রিশূল দেবী দুর্গাকে দিয়েছিলেন। ত্রিশূলের মাধ্যমে মানুষের ৩টি গুণকে বোঝানো হয় সত্ত্ব, তমঃ, রজঃ। এখানে সত্ত্ব মানে ধর্মজ্ঞান, তমঃ অথবা অন্ধকার দিক, এবং রজঃ মানে অহঙ্কার বোঝানো হয়েছে।


★3>শঙ্খ::-->

 শঙ্খের ধ্বনিতে ত্রিলোকে থাকা সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয় বলে মনে করা হয়। দুর্গাকে শঙ্খ দিয়েছিলেন বরুণদেব।



★4>বজ্র::--> ইন্দ্রদেব দুর্গাকে বজ্র দিয়েছিলেন, এর অর্থ সংকল্পের দৃঢ়তা। একই সঙ্গে সংহতির প্রতীকও বোঝানো হয় এর মাধ্যমে। 


★5>সাপ: পুরাণ মতে সর্প বা সাপকে শুদ্ধ চেতনার প্রতীক মনে করা হয়। নাগরাজ দেবীকে নাগপাশ দিয়েছিলেন। 


★6>গদা::--> দেবী দুর্গার হাতে থাকা গদা তাঁকে দিয়েছিলেন যমরাজ। এটিকে কালদণ্ডও বলা হয়ে থাকে। গদা আদতে আনুগত্য, ভালবাসার প্রতীক। 


★7>তীর-ধনুক::--> পবন দেব দুর্গাকে তীর ধনুক দিয়েছিলেন। এটি ইতিবাচক শক্তির প্রতীক।



★8>তলোয়ার::--> তলোয়ারের ধারকে বুদ্ধির প্রতীক বলে মনে করা হয়। এর মাধ্যমে বৈষম্যকে দূর করা হয়। গণেশ দেবী দুর্গাকে তলোয়ার দিয়েছিলেন।


★9>ঘণ্টা::--> শঙ্খের মতোই ঘণ্টা ধ্বনি সমস্ত অশুভকে বিনাশ করে বলে মনে করা হয়। ইন্দ্রের বাহন ঐরাবত দেবীকে এই অস্ত্র দিয়েছিলেন।


★10>পদ্ম::--> ব্রহ্মা দুর্গাকে পদ্মফুল দান করেছিলেন। পদ্ম আদতে জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক চেতনার বিকশিত হওয়ার প্রতীক। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)

========================


16>সাধনা চালিয়ে যাও, ব্যর্থ হলেও সাধনা করতে থাক।

 সাধনা চালিয়ে যাও, ব্যর্থ হলেও সাধনা করতে থাক।

রামগোপাল মহারাজ (প্রমেয়ানন্দজী) বলেছিলেন — সাধনা চালিয়ে যাও, ব্যর্থ হলেও সাধনা করতে থাক, উত্তর নিজে নিজেই পাবে, একদিন সাফল্য আসবেই। মহারাজ ছিলেন স্বামী বীরেশ্বরানন্দজী মহারাজের দীর্ঘকালের সেক্রেটারী। ভক্তদের নানারকম সাধনা-সমস্যায় প্রভু মহারাজ (বীরেশ্বরানন্দজী) কি কি উত্তর দিতেন তা রামগোপাল মহারাজ জানতেন। তাই তাঁর কাছে জানতে পারতাম সাধন জগতের অনেক কথা।


রামগোপাল মহারাজ বলতেন, স্বামীজী (বিবেকানন্দ) যে ধর্মের কথা বলেছেন সেটা esoteric নয়, রহস্যময়তা নয়, তার ধর্ম ছিল practical, ব্যবহারিক। কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়, সেটা বোঝ, জীবনশৈলী অভ্যাস কর। যতক্ষণ তোমার অহংবোধ আছে ততক্ষণ জগৎ আছে। ধ্যানে এই জগতের গভীরে যাও, সূক্ষ্ম তত্ত্বকে ধর, নিজের প্রকৃত সত্তাকে জান। কিন্তু অন্য সময়ে অর্থাৎ চোখ খুলে কাজের সময়ে যেভাবে বেদান্তসাধনা করতে হয় তার কথা স্বামীজী বলেছেন ব্যবহারিক বেদান্তে। অভ্যাস কর সেটা। ধর্মের নামে অনেকেই কর্মকে এড়িয়ে গেছে, কর্মকে গৌণ করে দেখেছে। শঙ্করাচার্য যেখানে জোর দিয়েছেন "ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা"-র ওপর, স্বামীজী সেখানে জোর দিয়েছেন 'ঈশা বাস্যম্ ইদম্ সর্বম্'-এর ওপর। তাই তিনি লিখেছিলেন — 'বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর?' ধ্যানে অনুভব কর ঈশ্বরের অব্যক্ত রূপকে, আর কর্মের মাধ্যমে অনুভব কর ঈশ্বরের ব্যক্ত রূপকে। চোখ বন্ধ করে যেমন মনকে শান্ত কর, তেমনি চোখ খুলেও মনে স্থিরতা আন। জীবনে এই স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাহলে ভেসে যাবে পরিবেশের প্রভাবে ও মনের আবেগে। জপ-ধ্যান খুবই প্রয়োজন মনের স্থিরতা আনতে। কিন্তু এই সঙ্গেই চোখ খুলে কাজের মাধ্যমে বিচার কর তোমার মনে কতটা স্থিরতা এসেছে। এই জগৎ ধর্মের পথে বাধা নয়, বরং নিজের বিকাশ ও মূল্যায়নের বড় সহায়ক।


রামগোপাল মহারাজের এই কথার গুরুত্ব বারবার অনুভব করেছি সাধুজীবনে। ধ্যানে মন শান্ত করা যতটা সহজ, আশ্রমের বাইরে কাজ করতে গিয়ে মন শান্ত রাখা ততটা সহজ নয়। প্রাকৃতিক পরিবেশ, নানান পরিস্থিতি, বিভিন্ন রকম মানুষ, কাজে সফলতা-ব্যর্থতা, এসব থাকেই। এসবের মধ্যে মন শান্ত রেখে কাজ করে যাওয়া, সব কিছুকে ব্রহ্মদৃষ্টিতে দেখা — এও কঠিন সাধনা। রামগোপাল মহারাজ বলেছিলেন: যখনই কোন কাজকে কঠিন মনে হবে তখন নিজের মনকে প্রশ্ন কর — কাজটা খুবই কঠিন, কিন্তু অসম্ভব কি? তোমার মন বলবে — না, কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। আসল কথা হল অভ্যাস করা দরকার। কতটা তুমি অভ্যাস করছ, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কতটা প্রয়োগ করছ। ব্যর্থ হলেও নতুন উদ্যম নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছ কিনা, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।


ধর্মকে পার্টটাইম করে রেখ না। সারাদিনে কেবল ২ বার জপ-ধ্যান করলাম, শনি-মঙ্গলবার মন্দিরে গেলাম, অমাবস্যায় গঙ্গাস্নান করলাম, আশ্রমে বা সর্বজনীন পূজায় চাঁদা দিলাম — শুধু এতেই আটকে থেক না। ধর্মকে ফুল্টাইম কাজ করে নাও, সামগ্রিক জীবনের জন্য। বাড়িতে-অফিসে-ক্লাবে-পাড়ায়-সমাজে সর্বত্র ধর্মের প্রয়োগ কর, সব জায়গায় সাধন কর। সব কাজকেই ধর্মীয় কাজ বলে গণ্য কর। সামগ্রিক জীবনকে নিয়েই ধর্ম।


সোমনাথ মহারাজ বলেছিলেন: কাজটা ধর্ম নয়, কিন্তু কাজকে ধর্ম করে নেওয়া যায়। পশু-পাখিও কাজ করে, গুন্ডা-চোরও কাজ করে। কিন্তু সেই কাজ ধর্ম নয়। ধর্মটা নির্ভর করে কর্মকর্তার চেতনার ওপর, মানসিকতার ওপর। তিনি কোন্ মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন? যে মানসিকতা নিজের 'ক্ষুদ্র আমি'র ওপরে উঠে 'বৃহৎ আমি'কে, 'মানবাত্মার আমি'কে বরণ করে সেই মানসিকতাই কোন কাজকে ধার্মিক কাজ করে তোলে। এ-রকম কথাই বলেছিলেন পাটনা আশ্রমের পরিতোষ মহারাজ — একটা কাজের মধ্য দিয়ে তোমার চেতনার বিকাশ হলে সেটা ধর্মীয় কাজ। বিহারে খরাত্রাণের সময়ে তাঁর কথা আজও মনে পড়ে। চোখ বন্ধ করে ধ্যান সহজ। বেশি সংগ্রাম করতে হয় চোখ খুলে বেদান্ত সাধনা করা। কর্মযোগ বেশ কঠিন। ... তাতে কি হয়েছে? কঠিন কাজ এক challenge। এটা করতে মজাও আছে।


         জয় মহামাঈকী জয় 

জয় ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব কী জয়

জয় স্বামীজি মহারাজজী কী জয় ||


             ( সংগৃহীত )

=========================


-

Sunday, August 24, 2025

15>|| প্রদীপ শিখা::

    15>||  প্রদীপ শিখা::---

ঠাকুর ঘরে বা যেকোন স্থানে প্রদীপ জ্বালাতে হলে দিক নির্দেশ বিশেষ জরুরি।


প্রদীপ শিখা কোন দিকে রাখবেন::---

উত্তরমুখী রাখলে::---->সম্পত্তি বৃদ্ধির 

          সহায়ক হয়।

পূর্বমুখী--->মানসিক সুখ শান্তি বৃদ্ধির 

            সহায়ক হয়।

পশ্চিমমুখী----->ধার দেনা তথা ঋণমুক্তির

             সহায়ক হয়।

দক্ষিণ মুখী----->মোটেই সুখকর নয়।

              অকল্যাণ কর হয়।

দুঃখ বেদনা অনিষ্টের কারণ হয়।

হিন্দু শাস্ত্র মতে দক্ষিণ মুখ করে কখনোই প্রদীপ জ্বালাতে নেই।

=========================


धार्मिक मान्यताओं के अनुसार शाम को

★ पूर्व दिशा की ओर दीपक का मुंह होना चाहिए। इससे आयु में वृद्धि होती है और साथ ही अकाल मृत्यु योग नष्ट हो जाता है। 

====..===......========

शाम को मुख्य द्वार पर दीया जलाने से माता लक्ष्मी की कृपा मिलते हैं।

शाम के समय घर के मुख्य द्वार पर दीया जलाने से माता लक्ष्मी की कृपा आप पर हमेशा बनी रहती है लेकिन शाम को दीया जलाते समय आपको कुछ विशेष नियमों का ध्यान जरूर रखना चाहिए। 

शाम के समय दीपक जलाने से न केवल नकारात्मक ऊर्जा घर से दूर रहती है बल्कि माता लक्ष्मी की भी विशेष कृपा मिलती है जिससे कि जीवन से आर्थिक तंगी दूर होती है। 

प्रदोष काल में दीपक जलाने को शुभ माना जाता है। प्रदोष काल सूर्यास्त के लगभग 30 मिनट पहले से सूर्यास्त के लगभग 30 मिनट बाद तक होता है। इस समय घर के मुख्य द्वार पर दीपक जलाना शुभ माना जाता है।

 शाम के समय मुख्य द्वार के पूर्व या उत्तर की दिशा में रखा शुभ होता है। 

वहीं, अगर आप पितरों के लिए दीपक जला रहे हैं, तो उसे दक्षिण दिशा में रखें। दक्षिण दिशा में दीपक पितरों के लिए रखा जाता है जबकि लक्ष्मी जी के लिए दीपक को हमेशा उत्तर दिशा में रखें।

दीपक के आसपास न रखें जूते-चप्पल

शाम के  अगर आप घर के मुख्य द्वार पर दीपक जलाते हैं, तो आपको इस बात का खास ख्याल रखना चाहिए कि दरवाजे पर जूते-चप्पल न रखे हों। ज्यादातर लोग घर के जूते-चप्पल बाहर मुख्य द्वार पर ही उतारते हैं लेकिन अगर आप मुख्य द्वार पर दीपक जलाते हैं, तो जूते-चप्पल वाली जगह पर दीपक रखना शुभ नहीं माना जाता।

दीपक को जलाने से पहले हर दिन साफ करें

आप मिट्टी का दीया जलाएं या फिर पीतल, तांबे का लेकिन आपको शाम के समय दीया जलाने से पहले हमेशा इसे साफ कर लेना चाहिए। याद रखें अगर किसी दीए पर कालिख जमा हो गई है, तो इस दीए को बदल दें या फिर अच्छी तरफ साफ करने के बाद ही जलाएं।

शाम को दीपक जलाने के बाद तुरंत दरवाजा बंद न करे।

आप अगर घर के मुख्य द्वार पर दीपक जलाते हैं, तो आपको दीपक जलाने के तुंरत बाद घर का दरवाजा बंद नहीं करना चाहिए। इससे घर में आने वाली सकारात्मक ऊर्जा बाहर ही रह जाती है, इसलिए दीपक जलाने के कुछ समय बाद तक आपको घर का मुख्य दरवाजा खुला ही रखना चाहिए।

★वास्तु शास्त्र के अनुसार उत्तर दिशा की ओर दीपक की लौ होना शुभ होता है। उत्तर दिशा में दीपक रखने से धन में वृद्धि होती है

===========================


Wednesday, May 28, 2025

14>মা দুর্গার নানান রূপ ও 108 নাম ::----

 

মা দুর্গার  নানান রূপ ও 108 নাম  ::----



দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপের পূজা প্রচলিত, বিশেষ করে নবরাত্রির সময়, এবং
12 মাসে বারো রূপে পুঁজিত হন মা দুর্গা।

নবরাত্রির সময় নয়টি রূপকে নবদুর্গা নামেও ডাকা হয়।
এর বাইরেও, দশমহাবিদ্যা নামে দেবী দুর্গার আরও দশটি রূপের পূজা হয়।
এই রূপগুলি প্রত্যেকটিকে আলাদা আলাদা সময়ে পূজা করা হয়।

★★নবদুর্গা:----
নবরাত্রির সময় এই নয়টি রূপে দেবী দুর্গার পূজা করা হয়। এই রূপগুলি হল - ●1>শৈলপুত্রী, ●2>ব্রহ্মচারিণী, ●3>চন্দ্রঘণ্টা, ●>4কুষ্মাণ্ডা,
●5>স্কন্দমাতা, ●6>কাত্যায়নী, ●7>কালরাত্রি, ●8>মহাগৌরী এবং ●9>সিদ্ধিদাত্রী.
===================
★★দশমহাবিদ্যা:-----
এই দশটি রূপ হলো -----
●1>কালী, ●2>তারা, ●3>ত্রিপুরা সুন্দরী, ●4>ভুবনেশ্বরী, ●5>ভৈরবী, ●6>চিন্নামস্তা, ●7>ধূমাবতী, ●8>বগালামুখী, ●9>মাতঙ্গী এবং ●10>কমলা.
অন্যান্য রূপ:
দেবী দুর্গার অনেক রূপের কথা প্রচলিত। যেমন, ★ভদ্রকালী, ★চণ্ডিকা ইত্যাদি.

এছাড়াও দেবীর
"বার মাসে বার রূপ" বলতে দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপের পূজা ও আরাধনা করা হয়।
====================

★★বারো মাসে মা দুর্গার বারো রূপে দেবীবরণ ও পূজা হয়।

●1> বৈশাখ মাস–এই মাসের আরাধ্যা দেবী হলেন গন্ধেশ্বরী।
বাংলা বছরের প্রথম মাস হল বৈশাখ। এই মাসের আরাধ্যা দেবী হলেন গন্ধেশ্বরী। এই দেবীর আরাধনা করেন মুলত গন্ধবণিকরা। কথিত আছে এই দেবীর আরাধনায় রমরমিয়ে বেড়েছেতাদের ব্যবসা। বেড়েছে গন্ধদ্রব্যের প্রাচুর্য।

●2> জ্যৈষ্ঠ মাস–এই মাসের আরাধ্যা দেবী হলেন ফলহারিণী।
জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী নামেই দেবী পূজিত হন। দেবীর এই রূপকে কর্মফল হরণকারিণী নামেও পরিচিত। এই দেবীর আরাধনার ফলেকর্মফল থেকে নিজেদের রক্ষা করা যায় বলে মনে করেছেন অনেকে।

●3> আষাড় মাস– এই মাসের আরাধ্যা দেবী হলেন "মা কামাক্ষ্যা" ।
অম্বুবাচী তিথিতেই মহাধুমধামের সঙ্গে পূজিত হন দেবী কামাক্ষ্যা। তিনিই হলেন উর্বরতার দেবী।

●4> শ্রাবণ মাস–দেবী শাকম্ভরী।
শ্রাবণ মাসে দেবী পূজিত হন শাকম্ভরী রূপে। অনেকে মনে করেন এই দেবীর কৃপাতেই মাঠঘাট ভরে ওঠে শাকসব্জিতে। যদিওআদিশক্তির এই রূপের পুজো এখন বিরল

●5> ভাদ্র মাস– দেবী পার্বতী।
এই মাসের আরাধ্যা দেবী হলেন দেবী পার্বতী। কথিত আছে এই মাসেই ঘটেছিল মহাদেব এবং পার্বতীর প্রথম মিলন।

●6> আশ্বিন মাস– দেবী দুর্গা।
এই মাসেই হয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্সব দুর্গাপূজা।রামায়ণে বর্ণিত অকালবোধনে রামচন্দ্র দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন । তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তি ঘটেছে দেবীর মূর্তিরও। এখন দেবী পূজিত হন মহিষাসুরমর্দিনী এবং চার সন্তানের জননী রূপে।

●7> কার্তিক মাস– দেবী জগদ্ধাত্রী।
এই মাসে আদিশক্তিপূজিত হন জগদ্ধাত্রী রূপে। কথিত আছে – একবার চার দেবতা ইন্দ্র, অগ্নি, বায়ু ও চন্দ্র খুব অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন। তারা ভুলে গিয়েছিলেন মহাশক্তির শক্তিতেই তারা বলীয়ান। তখন দেবী জগদ্ধাত্রী রূপে তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন। জগতের রক্ষাকারিণী দেবী হলেন দেবী জগদ্ধাত্রী।

●8> অগ্রহায়ণ মাস–দেবী কাত্যায়নী।
অগ্রহায়ণ মাসে কাত্যায়নী দেবীর পুজো হয়ে থাকে। এইদেবীকে বিবাহ এবং সন্তানকামনা পূরণকারিনী দেবী। পুরাণ অনুযায়ী, ব্রজের গোপিণীরা কৃষ্ণকে স্বামীরূপে পাওয়ার ইচ্ছায় এই দেবীর পুজো করতেন মাঘ মাসে। কিন্তু বাংলার নবদ্বীপের রাসযাত্রায় অগ্রহায়ণ মাসেই কাত্যায়নী দেবীর পুজোর প্রচলন আছে।

●9> পৌষ মাস– দেবী পৌষকালী।
এই মাসে পৌষকালীর আরাধনা করা হয়ে থাকে। আদিশক্তির এই রূপকে বলা হয় মোক্ষদানকারিণী। পৌষকালীর পুজোয় দেবীকে পৌষ মাসের অন্যতম সবজি মুলো নিবেদন করা হয়ে থাকে।

●10> মাঘ মাস– দেবী রটন্তীকালী।
এ মাসেও দেবী কালীর আরাধনা করা হয়। মাঘ মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশীতে রটন্তীকালীর পুজো করা হয়। দেবীর এই রূপকে গৃহশক্তির রক্ষাকারিণীও বলা হয়ে থাকে। দেবীর আরাধনায় সাংসারিক জীবন সুখের হয় বলেই মনে করেন অনেকে।

●11> ফাল্গুন মাস–দেবী সঙ্কটনাশিনী।
আদিশক্তি এইমাসে সঙ্কটনাশিনী রূপে পূজিত হন। জীবনসঙ্কট , রোগব্যধি এবং অন্যান্য বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য এই দেবীর আরাধনা করাহয়।

●12> চৈত্র মাস– দেবী বাসন্তী বা দেবীঅন্নপূর্ণা।
এই মাসে ধরিত্রীকে শস্যপূর্ণ করতে দেবী বাসন্তীর আরাধনা করা হয়। অনেকে চৈত্র মাসে আরাধ্যা দেবীকে অন্নপূর্ণা রূপেও পুজো করে থাকেন।
===========================

★দেবী দুর্গার108 নাম মাহাত্ম্য (সংক্ষেপে)লিখতেহবে।

দেবী দুর্গা হলেন বিশ্বজগতের মা।
জনপ্রিয় জগৎ জননী দেবী, দুর্গার অনেক অবতার  রয়েছে: কালী, ভগবতী, ভবানী, অম্বিকা, ললিতা, গৌরী, কন্দলিনী, জাভা, রাজেশ্বরী এবং আরও অনেক কিছু। এই সকল দেবীই বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হতে পারেন।

দুর্গা যখন নিজের রূপে আবির্ভূত হন, তখন তিনি  নয়টি পদের একটি রূপে আবির্ভূত হন । তারা হলেন ●1>স্কন্দমাতা, ●2>কুসুমন্দা, ●3>শৈলপুত্রী, ●4>কালরাত্রি, ●5>ব্রহ্মচারিণী, ●6>মহাগৌরী, ●7>কাত্যায়নী, ●8>চন্দ্রঘন্টা এবং ●9>সিদ্ধিদাত্রী।

দুর্গার ১০৮টি নাম তাঁর জটিল প্রকৃতির প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, যা তাঁর অসংখ্য গুণাবলী, রূপ ও ঐতিহ্যের বর্ননা করে এবং ১০৮ সংখ্যার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে। দুর্গার প্রতিটি নাম তাঁর ঐশ্বরিক প্রকৃতি, গুণাবলী এবং কর্মের একটি ভিন্ন দিককে ধারণ করে।

দুর্গার ১০৮টি নামের ইতিহাস::---
ভগবান শিব দেবী দুর্গার প্রতি তাঁর ভক্তি প্রকাশের জন্য এবং তাঁকে খুশি করার জন্য তাঁর ১০৮টি নাম বলেছিলেন ।

এই নামগুলি পুরাণে পাওয়া যায়, যা পবিত্র হিন্দু সাহিত্যের একটি বিশাল সংগ্রহ, যাকে বলা হয় ​দেবী মাহাত্ম্যম বা দেবীমাহাত্ম্যম ( দেবীর মহিমা ), যা দেবী দুর্গার যুদ্ধ এবং রাক্ষস রাজা মহিষাসুরের উপর শেষ পর্যন্ত বিজয়ের গল্প বর্ণনা
করে।
প্রাচীন ভারতীয় ঋষি মার্কণ্ডেয় কর্তৃক সংস্কৃত ভাষায় প্রায় ৪০০-৫০০ খ্রিস্টাব্দে রচিত, এই হিন্দু ধর্মগ্রন্থটি দুর্গা সপ্তশত বা কেবল চণ্ডী নামেও পরিচিত ।

নবরাত্রী এবং দুর্গাপূজার উৎসবে , ভক্তরা দেবীর ১০৮টি নামে প্রার্থনা করেন।

দেবী দুর্গার ১০৮ টি নাম
( ১) সতী,=="সতী" দক্ষের কন্যা ও 
                  শিবপত্নী ,পতিব্রতা নারী।
( ২) সাধ্বী=তপস্বী,পবিত্র নারী।
( ৩) ভবপ্রীতা=অনুভূতির দীপ্তি
( ৪) ভবানী==জীবনদাতা', 'প্রকৃতির শক্তি'
                     বা সৃজনশীল শক্তির উৎস'

( ৫)ভবমোচনী,

( ৬) আর্য্যা,=দেবী
( ৭) দুর্গা,
( ৮) জয়া,

( ৯)আদ্যা =আদিম বাস্তবতা।

( ১০) ত্রিনেত্রা,
( ১১) শূলধারিণী,
( ১২)পিনাকধারিণী,
( ১৩ ) চিত্রা,
( ১৪) চন্দ্রঘণ্টা,
( ১৫)মহাতপা,
( ১৬ ) মনঃ,
( ১৭) বুদ্ধি,

( ১৮ ) অহঙ্কার==যিনি গর্বে পূর্ন।

( ১৯)চিত্তরূপা,
( ২০ ) চিতা,
( ২১ ) চিতি,
( ২২)সর্বমন্ত্রময়ী,
( ২৩ ) নিত্যা,
( ২৪) সত্যানন্দস্বরূপিণী,
( ২৫) অনন্তা==অসীম অপরিমেয়।
( ২৬) ভাবিনী==বিশ্বজগতের মাতা।

( ২৭) ভাব্যা=
( ২৮) ভব্যা

( ২৯) অভব্যা,=ভয়ঙ্করী।

( ৩০) সদাগতি,
( ৩১ ) শাম্ভবী,
( ৩২)দেবমাতা,
( ৩৩ ) চিন্তা,
( ৩৪ ) রত্নপ্রিয়া,
( ৩৫)সর্ববিদ্যা,
( ৩৬ ) দক্ষকন্যা,
( ৩৭)দক্ষযজ্ঞবিনাশিনী,

( ৩৮ ) অপর্ণা==জযিনি উপবাসের সময় পাতাও খাওয়া থেকে বিরত থাকেন।

( ৩৯)অনেকবর্ণা==যার একাধিক বর্ণ
                             আছে।
( ৪০) পাটলা,
( ৪১ ) পাটলাবতী,
( ৪২)পট্টাম্বরপরিধানা,
( ৪৩) কলমঞ্জীররঞ্জিনী,
( ৪৪)অমেয়বিক্রমা,
( ৪৫ ) ক্রূরা,
( ৪৬ ) সুন্দরী,
( ৪৭)সুরসুন্দরী,
( ৪৮ ) বনদুর্গা,
( ৪৯ ) মাতঙ্গী,
( ৫০)মতঙ্গমুনিপূজিতা,
( ৫১ ) ব্রাহ্মী,
( ৫২) মাহেশ্বরী,

( ৫৩) ঐন্দ্রী,=যিনি ইন্দ্রকে শক্তি দেন।

( ৫৪) কৌমারী,
( ৫৫) বৈষ্ণবী,
( ৫৬)চামুণ্ডা,
( ৫৭ ) বারাহী,
( ৫৮ ) লক্ষ্মী,
( ৫৯)পুরুষাকৃতি,
( ৬০ ) বিমলা,
( ৬১ ) উৎকর্ষিণী,
( ৬২)জ্ঞানা,
( ৬৩ ) ক্রিয়া,
( ৬৪ ) সত্যা,
( ৬৫ ) বুদ্ধিদা,

( ৬৬)বহুলা== যার বিভিন্ন রূপ ও প্রকাশ
                       রয়েছে।
( ৬৭ ) বহুলপ্রেমা==যিনি সকলের প্রিয়।

( ৬৮) সর্ববাহনবাহনা,
( ৬৯)নিশুম্ভনিশুম্ভহননী,
( ৭০ ) মহিষাসুরমর্দিনী,
( ৭১)মধুকৈটভহন্ত্রী,
( ৭২) চণ্ডমুণ্ডবিনাশিনী,
( ৭৩)সর্বাসুরবিনাশা,
( ৭৪ ) সর্বদানবঘাতিনী,
( ৭৫)সর্বশাস্ত্রময়ী,
( ৭৬) সত্যা,
( ৭৭ ) সর্বাস্ত্রধারিণী,

( ৭৮) অনেকশস্ত্রহস্তা==যিনি অনেক অস্ত্র
                                  ধারণ করেন।

( ৭৯) অনেকাস্ত্রধারিণী,
( ৮০) কুমারী,
( ৮১ ) কন্যা,
( ৮২) কৈশোরী,
( ৮৩) যুবতী
( ৮৪) যতি,

( ৮৫ ) অপ্রৌঢ়া==যিনি কখনও বৃদ্ধ
                            হয়না।

( ৮৬ ) প্রৌঢ়া,
( ৮৭)বৃদ্ধমাতা,
( ৮৮) বলপ্রদা,
( ৮৯ ) মহোদরী,
( ৯০)মুক্তকেশী,
( ৯১) ঘোররূপা,
( ৯২ ) মহাবলা,
( ৯৩)অগ্নিজ্বালা==যিনি আগুন ছড়াতে
                                সক্ষম
( ৯৪ ) রৌদ্রমুখী,
( ৯৫) কালরাত্রি,
( ৯৬) তপস্বিনী,
( ৯৭ ) নারায়ণী,
( ৯৮ ) ভদ্রকালী,
( ৯৯)বিষ্ণুমায়া,
( ১০০ ) জলোদরী,
( ১০১ ) শিবদূতী,
( ১০২ )করালী,
★( ১০৩ ) অনন্তা,
( ১০৪ ) পরমেশ্বরী,
( ১০৫ )কাত্যায়নী,
( ১০৬ ) সাবিত্রী,
( ১০৭ ) প্রত্যক্ষা এবং
( ১০৮ ) ব্রহ্মবাদিনী।
(জয় মা দূর্গা)
=========================