Thursday, September 4, 2025

17>দেবীর দশ অস্ত্র ও তার প্রতীক::---

 দেবীর দশ অস্ত্র ও তার প্রতীক::---


দেবীর দশ হাত এবং তার অস্ত্র আসলে বাস্তব জীবনের নানা প্রতীক! জেনে নিন তাদের অর্থ

দুর্গার হাতে থাকা ১০ অস্ত্রেই লুকনো আছে বাস্তব জীবনের কিছু অর্থ। আদতে এই অস্ত্রগুলি বিভিন্ন জিনিসের প্রতীক। জানেন সেগুলি কী?


 মা দুর্গা মানেই দশ হাতে একসাথে দশ দিক সামল দেওয়া দশ হাতে।

এই দশ হাতে দশ অস্ত্র যেন একসঙ্গে একাধিক কাজ করার প্রতীক।


দেবী দুর্গা শব্দটি শুনলেই দশ হাতে দশ রকমের অস্ত্র নিয়ে রণসাজে সুসজ্জিত এক দেবীর ছবি তথা প্রতিমার অবয়ব

 চোখের সামনে ভাসে। 


 দেবীর এ-হেন দশ হাত এবং তাতে থাকা দশ রকমের অস্ত্র আসলে এক একটি প্রতীক? এর সঙ্গে যোগ আছে বাস্তব জীবনের।


  ★1>চক্র::--->

দেবীর হাতে থাকা চক্র আদতে দৃঢ়তা এবং সংহতির প্রতীক। একই সঙ্গে এই চক্রের মাধ্যমে বোঝানো হয় সমস্ত সৃষ্টির কেন্দ্রে রয়েছেন স্বয়ং দেবী দুর্গা। বিষ্ণু তাঁকে এই অস্ত্র দিয়েছিলেন। 



★2>ত্রিশূল::-->

দেবাদিদেব মহাদেব তাঁর ত্রিশূল দেবী দুর্গাকে দিয়েছিলেন। ত্রিশূলের মাধ্যমে মানুষের ৩টি গুণকে বোঝানো হয় সত্ত্ব, তমঃ, রজঃ। এখানে সত্ত্ব মানে ধর্মজ্ঞান, তমঃ অথবা অন্ধকার দিক, এবং রজঃ মানে অহঙ্কার বোঝানো হয়েছে।


★3>শঙ্খ::-->

 শঙ্খের ধ্বনিতে ত্রিলোকে থাকা সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয় বলে মনে করা হয়। দুর্গাকে শঙ্খ দিয়েছিলেন বরুণদেব।



★4>বজ্র::--> ইন্দ্রদেব দুর্গাকে বজ্র দিয়েছিলেন, এর অর্থ সংকল্পের দৃঢ়তা। একই সঙ্গে সংহতির প্রতীকও বোঝানো হয় এর মাধ্যমে। 


★5>সাপ: পুরাণ মতে সর্প বা সাপকে শুদ্ধ চেতনার প্রতীক মনে করা হয়। নাগরাজ দেবীকে নাগপাশ দিয়েছিলেন। 


★6>গদা::--> দেবী দুর্গার হাতে থাকা গদা তাঁকে দিয়েছিলেন যমরাজ। এটিকে কালদণ্ডও বলা হয়ে থাকে। গদা আদতে আনুগত্য, ভালবাসার প্রতীক। 


★7>তীর-ধনুক::--> পবন দেব দুর্গাকে তীর ধনুক দিয়েছিলেন। এটি ইতিবাচক শক্তির প্রতীক।



★8>তলোয়ার::--> তলোয়ারের ধারকে বুদ্ধির প্রতীক বলে মনে করা হয়। এর মাধ্যমে বৈষম্যকে দূর করা হয়। গণেশ দেবী দুর্গাকে তলোয়ার দিয়েছিলেন।


★9>ঘণ্টা::--> শঙ্খের মতোই ঘণ্টা ধ্বনি সমস্ত অশুভকে বিনাশ করে বলে মনে করা হয়। ইন্দ্রের বাহন ঐরাবত দেবীকে এই অস্ত্র দিয়েছিলেন।


★10>পদ্ম::--> ব্রহ্মা দুর্গাকে পদ্মফুল দান করেছিলেন। পদ্ম আদতে জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক চেতনার বিকশিত হওয়ার প্রতীক। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)

========================


16>সাধনা চালিয়ে যাও, ব্যর্থ হলেও সাধনা করতে থাক।

 সাধনা চালিয়ে যাও, ব্যর্থ হলেও সাধনা করতে থাক।

রামগোপাল মহারাজ (প্রমেয়ানন্দজী) বলেছিলেন — সাধনা চালিয়ে যাও, ব্যর্থ হলেও সাধনা করতে থাক, উত্তর নিজে নিজেই পাবে, একদিন সাফল্য আসবেই। মহারাজ ছিলেন স্বামী বীরেশ্বরানন্দজী মহারাজের দীর্ঘকালের সেক্রেটারী। ভক্তদের নানারকম সাধনা-সমস্যায় প্রভু মহারাজ (বীরেশ্বরানন্দজী) কি কি উত্তর দিতেন তা রামগোপাল মহারাজ জানতেন। তাই তাঁর কাছে জানতে পারতাম সাধন জগতের অনেক কথা।


রামগোপাল মহারাজ বলতেন, স্বামীজী (বিবেকানন্দ) যে ধর্মের কথা বলেছেন সেটা esoteric নয়, রহস্যময়তা নয়, তার ধর্ম ছিল practical, ব্যবহারিক। কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়, সেটা বোঝ, জীবনশৈলী অভ্যাস কর। যতক্ষণ তোমার অহংবোধ আছে ততক্ষণ জগৎ আছে। ধ্যানে এই জগতের গভীরে যাও, সূক্ষ্ম তত্ত্বকে ধর, নিজের প্রকৃত সত্তাকে জান। কিন্তু অন্য সময়ে অর্থাৎ চোখ খুলে কাজের সময়ে যেভাবে বেদান্তসাধনা করতে হয় তার কথা স্বামীজী বলেছেন ব্যবহারিক বেদান্তে। অভ্যাস কর সেটা। ধর্মের নামে অনেকেই কর্মকে এড়িয়ে গেছে, কর্মকে গৌণ করে দেখেছে। শঙ্করাচার্য যেখানে জোর দিয়েছেন "ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা"-র ওপর, স্বামীজী সেখানে জোর দিয়েছেন 'ঈশা বাস্যম্ ইদম্ সর্বম্'-এর ওপর। তাই তিনি লিখেছিলেন — 'বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর?' ধ্যানে অনুভব কর ঈশ্বরের অব্যক্ত রূপকে, আর কর্মের মাধ্যমে অনুভব কর ঈশ্বরের ব্যক্ত রূপকে। চোখ বন্ধ করে যেমন মনকে শান্ত কর, তেমনি চোখ খুলেও মনে স্থিরতা আন। জীবনে এই স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাহলে ভেসে যাবে পরিবেশের প্রভাবে ও মনের আবেগে। জপ-ধ্যান খুবই প্রয়োজন মনের স্থিরতা আনতে। কিন্তু এই সঙ্গেই চোখ খুলে কাজের মাধ্যমে বিচার কর তোমার মনে কতটা স্থিরতা এসেছে। এই জগৎ ধর্মের পথে বাধা নয়, বরং নিজের বিকাশ ও মূল্যায়নের বড় সহায়ক।


রামগোপাল মহারাজের এই কথার গুরুত্ব বারবার অনুভব করেছি সাধুজীবনে। ধ্যানে মন শান্ত করা যতটা সহজ, আশ্রমের বাইরে কাজ করতে গিয়ে মন শান্ত রাখা ততটা সহজ নয়। প্রাকৃতিক পরিবেশ, নানান পরিস্থিতি, বিভিন্ন রকম মানুষ, কাজে সফলতা-ব্যর্থতা, এসব থাকেই। এসবের মধ্যে মন শান্ত রেখে কাজ করে যাওয়া, সব কিছুকে ব্রহ্মদৃষ্টিতে দেখা — এও কঠিন সাধনা। রামগোপাল মহারাজ বলেছিলেন: যখনই কোন কাজকে কঠিন মনে হবে তখন নিজের মনকে প্রশ্ন কর — কাজটা খুবই কঠিন, কিন্তু অসম্ভব কি? তোমার মন বলবে — না, কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। আসল কথা হল অভ্যাস করা দরকার। কতটা তুমি অভ্যাস করছ, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কতটা প্রয়োগ করছ। ব্যর্থ হলেও নতুন উদ্যম নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছ কিনা, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।


ধর্মকে পার্টটাইম করে রেখ না। সারাদিনে কেবল ২ বার জপ-ধ্যান করলাম, শনি-মঙ্গলবার মন্দিরে গেলাম, অমাবস্যায় গঙ্গাস্নান করলাম, আশ্রমে বা সর্বজনীন পূজায় চাঁদা দিলাম — শুধু এতেই আটকে থেক না। ধর্মকে ফুল্টাইম কাজ করে নাও, সামগ্রিক জীবনের জন্য। বাড়িতে-অফিসে-ক্লাবে-পাড়ায়-সমাজে সর্বত্র ধর্মের প্রয়োগ কর, সব জায়গায় সাধন কর। সব কাজকেই ধর্মীয় কাজ বলে গণ্য কর। সামগ্রিক জীবনকে নিয়েই ধর্ম।


সোমনাথ মহারাজ বলেছিলেন: কাজটা ধর্ম নয়, কিন্তু কাজকে ধর্ম করে নেওয়া যায়। পশু-পাখিও কাজ করে, গুন্ডা-চোরও কাজ করে। কিন্তু সেই কাজ ধর্ম নয়। ধর্মটা নির্ভর করে কর্মকর্তার চেতনার ওপর, মানসিকতার ওপর। তিনি কোন্ মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন? যে মানসিকতা নিজের 'ক্ষুদ্র আমি'র ওপরে উঠে 'বৃহৎ আমি'কে, 'মানবাত্মার আমি'কে বরণ করে সেই মানসিকতাই কোন কাজকে ধার্মিক কাজ করে তোলে। এ-রকম কথাই বলেছিলেন পাটনা আশ্রমের পরিতোষ মহারাজ — একটা কাজের মধ্য দিয়ে তোমার চেতনার বিকাশ হলে সেটা ধর্মীয় কাজ। বিহারে খরাত্রাণের সময়ে তাঁর কথা আজও মনে পড়ে। চোখ বন্ধ করে ধ্যান সহজ। বেশি সংগ্রাম করতে হয় চোখ খুলে বেদান্ত সাধনা করা। কর্মযোগ বেশ কঠিন। ... তাতে কি হয়েছে? কঠিন কাজ এক challenge। এটা করতে মজাও আছে।


         জয় মহামাঈকী জয় 

জয় ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব কী জয়

জয় স্বামীজি মহারাজজী কী জয় ||


             ( সংগৃহীত )

=========================


-